আব্দুল্লাহ আল মারুফ চট্টগ্রাম।। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ব্যস্ততম কেরানীহাট এলাকায় জেলা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে তথাকথিত ‘দেশীয় শিল্প পণ্য ও উদ্যোক্তা মেলা’। কোনো বৈধ্য কাগজপত্র ছাড়া কয়েকদিন ধরে এ মেলা চলায় মহাসড়কে তীব্র যানজট, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ব্যাঘাত এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ অক্টোবর কেরানীহাটের ‘সী-ওয়ার্ল্ড’ নামক স্থানে মেলাটির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ। উদ্বোধনের পর থেকেই নিয়মিত মেলা চলায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এবং কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়কে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী যাত্রী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের দীর্ঘসময় যানজটে আটকে থেকে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সামনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক পরীক্ষা উল্লেখ করে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, পরীক্ষার ঠিক আগে এমন মেলা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ নষ্ট করছে। একই সঙ্গে মেলাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বহিরাগতদের আনাগোনা বাড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সম্প্রতি কেরানীহাট মহাসড়কের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসন অভিযান চালালেও, মেলাটির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, জেলা প্রশাসনের অনুমোদন, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও অগ্নিনিরাপত্তার ন্যূনতম শর্ত না মেনে এত বড় আয়োজন চললেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে
অভিযোগের বিষয়ে মেলার মূল উদ্যোক্তা মো. এমরানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “জেলা প্রশাসক (ডিসি) কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন ইতিবাচক রিপোর্ট দিয়েছে। তবে অনুমোদনের কোনো চূড়ান্ত অনুমতিপত্র তিনি দেখাতে পারেননি; কেবল আবেদনের রিসিভ কপি প্রদর্শন করেন তিনি আরএ বলেন স্থানীয় প্রশাসনকে মাইনাস করে আমাদের মেলা পরিচালিত হচ্ছে ।
পুলিশ প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে মেলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল আলীম।মেলা অনুমোদন দেন জেলা প্রশাসক ওখানে যোগাযোগ করেন বলে সংযোগ কেটে দেন তিনি।
অন্যদিকে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ জানান, উপজেলা প্রশাসন থেকে উক্ত মেলার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। জেলা প্রশাসন থেকে মেলার কোনো অনুমতি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বিষয়টিতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন,অনুমোদন ছাড়া বাণিজ্য মেলা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। মেলার বিষয়ে কোনো প্রশাসনিক ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে কি না, তা আমরা খতিয়ে দেখছি। নিয়মবহির্ভূতভাবে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে মেলা পরিচালিত হলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।





মন্তব্য